16.8 C
New York
Thursday, November 12, 2020

আমেনা মহল

আমেনা গরিব ঘরের এক সুন্দরি মেয়ে।বয়স পনেরোতে পা না বাড়াতেই তাঁর বিয়ে হয় বাদশা মিয়ার সাথে। নাম তাঁর বাদশা কিন্তু বাদশাহি তাঁর কিছু নেই।বেড়া আর ছনের চালার ছোট্ট এক কুড়ে ঘর। বর্ষার সময়ে বৃষ্টির পানি আকাশ থেকে মাটিতে পড়ার আগেই তাঁর কুঁড়ে ঘরে টপটপ পড়ে মাটির মেঝে কাদা করে দেয়। এসময় আমেনা বড়ই মন খারাপ করে।আহা!কত স্বপ্ন মনে মনে বুনে ছিল তাঁর আলিশান একটা বাড়ি থাকবে। বাড়ির সামনে সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগানো থাকবে। সুন্দর একটা বাগান থাকবে। ঐখানে বসে সে সন্ধ্যায় চা খাবে।কিন্তু সে জানে এগুলো পূরণ হওয়ার মতো কোন স্বপ্ন নয়।গরিবের মেয়ের এই স্বপ্ন দেখা অনেকটা ছেঁড়া চুলে খোপা বাঁধার মতই।গরিব হিসেবে যা পাওয়ার তাই পেয়েছে।শুধু বর্ষার সময়ে জ্বালা।আর বাকি মাস গুলোতে যেন মনে হয় কোন রাজপ্রসাদে আছে।গরিবের রাজপ্রসাদে। যতটা শান্তিতে থাকবে ভেবেছিলো তার চাইতেও বেশি শান্তিতে আছে।বাদশা মিয়ার মনটাও বেশ বাদশার মতই বড় শুধু টাকা কড়ি নাই।আর কোন দিকে কোন কমতি নাই।বিয়ের পরে নাইওরে গিয়ে আমেনা তাঁর ঝিনুক আপার সাথে বেশ গল্প করেছে,

জানো ঝিনুক আপা আমি না বড়ই শান্তিতে আছি।বাদশা মিয়া কিন্তু বাদশার চাইতে কম না।টাকা কড়ি একটু কম আরকি। টাকা কড়ি দিইয়া কি আর সুখ কিনা যাইবো আপনে কন।ভালাই হয়ছে আমার বড় বাড়ি গাড়ির সপ্নটা পূরণ হয় নাই।এতো শান্তি কি আর ঐখানে পাইতাম নি।
হ ঠিক কইছিস। শান্তিতে থাইকলেতো ভালাই।না থাকলে বড়ই জ্বালারে আমারে দেখ।গরিবের মাইয়া গরিবের ঘরে বিইয়া হইছে।দু দিক থেইকা কষ্ট।টাকা কড়ি কিছু নাই। ভালা মতোন করে একবেলা খাইতেই খবর হইয়া যায়।সারাদিন ঝগড়াফসাদে দিন পার।বড়ই অশান্তি লাগে।

ঝগড়াফসাদ বড়ই খারাপ আপা।আহা!তোমার কত দুঃখ। আপা কি করমু আপনেরে কিছু সাহায্য কইরতে পারমুনা ভাইবতেই বড় কষ্ট লাগেরে।

তুই আর কি কইরবার পাইরবি। তুই শান্তিতে থাক ঐটাই শুইনলে বেশ ভালা লাইগবো।

দোয়া কইরবেন আপা। যাতে এইভাবেই শান্তিতে থাইকাই জীবনডা পার কইরা দিতে পারি।

দোয়া।আমার দোয়া কি কবুল হইবো নি।

আপা কার দোয়া কহন কবুল হইবো কেউই কইতে পারে না।একদিন অবশ্যই বেগ দোয়ায় কবুল হইবো।

আচ্ছা।দোয়া করি তোর জন্যে।

ঝিনুক আপা গেলেই আসে রেহেনা ভাবি,
কেমন আছেন আমেনা আপা।

ভাবি বেশ ভালাই আছি।আপনের কি খবর দবর?শুইনলাম ভাই নাকি বড় চাকরি পাইছে হাচা কথা নাকি।

হ হাচা শুইনচো। লাক খুলছে বলে পাইছে নাইলে কিছুই পাইতো না।

তা তোমার আর কি খবর কও নাই যে।

আর বেগ আগের মতই আছে আমেনা আপা।আপনের কি খবর। শ্বশুর বাড়ি কেমন লাইগলো?

বেশ ভালাই লাগছে। বড়ই শান্তিতে আছি।

অহ ভালা লাইগলো শুইনা। আপনের জামাইডা ঠিক আছেতো নাকি।

হ তাঁর কথা আর কি কমু। বড়ই ভালা মানুষ। মনটা তাঁর আসমান সমান। বহুত খেয়াল রাখেরে। এতো ভালা মানুষের লগে বিয়া হইবো কল্পনায় করি নাই।
সুখ শান্তি বড়ই দামি জিনিস আপা।দেইখলেন না করিম চাচার লগে কি হইলো।এতো বড় বাড়ি এতো বড় গাড়ি আছে।কতই টাকা কড়ির মালিক। বিয়া করছে রাজকইন্যা দেইখা। কি হইলো শেষমেশ গিয়া অশান্তি শুরু হইলো।বাড়ি গাড়ি বেগ ফেলাইয়া রাজ কইন্যা চইল্লা গেছে।এতো গাড়ি বাড়ি আছে তারপরও কি আর করিম চাচার শান্তি আছে কন আপনে।

হুম। ঠিক কইছেন আপনে।টাকা কড়ি নাই একপ্রকার শান্তিতেই আছি। বেশী থাইকলেও আবার সমস্যা কেউরে কেউ পাত্তা দেই না।

হ বোঝলেইনতো।আচ্ছা আজ আমি উঠি।

আচ্ছা যান। যাইবার সময় আইসেন।

কখন যাইবেন?

এইতো সন্ধ্যে বেলা।

আচ্ছা।

আমেনা সব ঘুচিয়ে নিয়েছে। সন্ধ্যে বেলায় তাকে নিতে এসেছে বাদশা মিয়া। আমেনা বড়ই খুশিতে আছে দেখে তাঁর মা বড়ই নিশ্চিন্তে আছে।থাকার জন্যে বেশ জোরাজোরি করলেন না।যেখানে শান্তিতে আছে সেইখানেই থাকুক না।রেহেনা ভাবি এলো ঝিনুক আপা এলো,চাচা,চাচি,দাদি,বড়মা সবাই মিলে তাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিল।
আমেনা তাঁর শ্বশুর বাড়িতে পা রাখলো আজকে আবারও চারদিক ঘুরে ফিরে দেখল।।বাদশা মিয়া আর সে ছাড়া ঘরে কেউ নেই। একা এই রাজ্যের রাণী সে ভাবতেই তাঁর অবাক লাগছে।তাঁদের এই রাজ্য যেন ভালোবাসার চাদরে ঢাকা।এতো ভালোবাসা আমেনা আশা করেনি কিন্তু সে না চাইতেই পেয়ে গেছে ভেবে নিজেকে বড়ই ভাগ্যবতী মনে করে।বছর দেড়েক ঘুরতেই তাঁদের রাজ্যে রাজপুত্রের আগমন ঘটে।আনন্দে জোয়ারে ভাসে গরিবের এই রাজপ্রসাদ।বড়ই শখ করে নাম দিয়েছে পুত্রের দুলাল।আমেনা আর বাদশা মিয়ার সংসার যেন আনন্দে ভরে উঠেছে।দুলাল আস্তে আস্তে হাঁটা শিখছে দেখে বাদশা মিয়া বড়ই আবেগ আপ্লুত। দুলালের দুইটা দাঁত উঠেছে আমেনা কিছু মুখে দিতে গেলেই দেয় কামড় বসিয়ে।বাদশা মিয়া দেখে খিলখিল করে হাসে। তাকে হাসতে দেখে দুলালও হাসে। আমেনাও বেশ মজা পায় ইচ্ছা করেই হাতটা দেয় দুলালের মুখের কাছে যেই কামড় দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে আস্তে করে হাতটা সরিয়ে ফেলে।দুলাল এইবার শুরু করে তুমুল কান্না।
ভালো দিনগুলো আর বেশীদিন থাকেনা। ভালো খারাপ সমানে সমানে আসে। আমেনার বড়ই মন খারাপ হয় এই কথা ভেবে।এতো সুখের সংসারে সুখ কয়দিন ঠিকবে। বাদশা মিয়া আমেনাকে নির্ভয় দিয়ে বলে

খারাপ কিচ্ছু হইবো না।
কিন্তু মনে মনে তাঁরও বেশ চিন্তা হয়।এই সুখ শান্তি যেভাবেই হউক আঁকড়ে ধরতে হবে। দুলাল অল্প স্বল্প কথা বলা শুরু করেছে।মা ডাকটা ঠিক শিখতে দেরি হলো না কিন্তু বাবা ডাকটা ঠিক শিখতে পারলো না।আমেনা দুলালকে বলে

দুলাল মা ডাকতো দেহি।

দুলাল তখন স্পষ্ট করেই বলে, মা মা।

দেহি বাবা ডাকতো।

সে চুপ করে থাকে। বাদশা মিয়া দেখে দুলালের সাথে বেশ রাগারাগি করে।আমেনা মুখ টিপেটিপে হাসে।

আমেনা ইদানীং প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে।তাঁর চোখের নিচের বেশ গাঢ় কালো দাগ পড়েছে। মুখ শুকিয়ে এতটুকুন হয়েছে। বাদশা মিয়া কবিরাজ ডাকিয়েছে কিন্তু বিশেষ কি রোগ তা ধরতে পারছেন না।কিছুই তো তেমন দেখছেন না তাহলে কি হয়েছে ঠিক কবিরাজ বাবুও বলতে পারছে না। তারপরও দুবেলার ঔষধ খাওয়াতে বলে গেছেন।বাদশা বড়ই যত্ন করছেন আমেনার, দুলালকে সামলাচ্ছেন। কবিরাজ বাবু রোগ সারছেনা দেখে বড় ডাক্তার দেখাতে বলেছেন। টাকা কড়ির অভাব বলে দিনরাত কাজ করছেন। কিছু টাকা হলেই হবে। তারপর আমেনাকে বড় ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করে ঠিক করবেন।

মেলা দিন গেল আমেনা কিছু সময় ভালো থাকে আবার কিছু সময় কেমন যেন করে।ভালো থাকলে দুলালকে দেখে বাড়ির কাজ সব শেষ করে। ভালো না লাগলে কেউ মরে গিয়েছে বললেও ফিরে তাকাবে না।বাদশা মিয়ার বড়ই চিন্তা আমেনাকে নিয়ে কত হাসি খুশিতেই না ছিল।দুঃখের পর সুখ আর সুখের পর দুঃখ ঠিক তাই যেন হচ্ছে তাঁর সাথে। অনেক দিনের চেষ্টায় সে কিছু টাকা জমিয়েছে আর দেরি না করে আমেনাকে নিয়ে গেল শহরের এক বড় ডাক্তারের কাছে।ডাক্তার সরাসরি কিছুই বলল না।অনেকগুলো টেস্ট করাতে বলেছেন। দুইটা আজকেই করেছে আর বাকি গুলো পরে করাবে বলে এসেছে।চেয়ারম্যান সাহেব থেকে কিছু সাহায্য নিয়েছে তা দিয়ে বাকি টেস্ট গুলোও করিয়েছে।

দুইদিন পর রিপোর্ট দেখাতে বাদশা মিয়া নিজে গেল আমেনার অতো শক্তি নাই হাঁটতে পারবে না তাই।রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বাদশা মিয়াকে প্রশ্ন করেন

আপনি রোগীর কে হন?

আমি তাঁর স্বামী।

আচ্ছা শুনেন আপনার স্ত্রীর বেশ বড় অসুখ বাঁধিয়েছে। সারবে না তা নিশ্চিত।

কি বলেন ডাক্তার সাহেব একটু দয়া করেন।কি রোগ হয়ছে তাঁর?

দয়া করেও কিছু হবে না।আপনার স্ত্রীর ক্যান্সার হয়েছে। ক্যান্সার শেষ ধাপে আছে। এখন আর বিশেষকিছু করেও কোন লাভ হবে না।আপনি কি আমার কথা ঠিক বুঝতে পেরেছেন?

জ্বী ডাক্তার সাহেব বুঝতে পারছি।কোন চিকিৎসা নাই এই রোগের?

আছে কিন্তু রোগ বেড়ে গিয়েছে এখন আর কিছু সম্ভব না।আরো একটা কথা আছে?

কি কথা বলেন না?

না মানে তোমার স্ত্রীর হাতে আর মাত্র ছয় মাস সময় আছে এরপর যেকোনো সময় মৃত্যুরপথে যাবেন।

বাদশা মিয়া আর কিছুই না বলে রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগল।ভাবে সে খুব ভাবে তাদেঁর সুখের সংসারে সুখের জোয়ারে ভাটা পড়েছে।আমেনাকে ছাড়া জীবনটা ঠিক কল্পনা করতে পারলো না সে।আবার কিছু সময় চিন্তা করল দুলালের কথা।অনেক দিন পার করল বাদশা মিয়া বড়ই যত্নে রেখেছে আমেনাকে। আমেনাকে ঠিক বোঝতেও দিলো না তাঁর কি হয়েছে। আমেনা নিজেকে বড়ই তুচ্ছ ভাবতে লাগে। বাদশা মিয়ার কতই খাটনি করতে হচ্ছে তাঁর জন্যে।বাদশা মিয়া চিন্তা করল আমেনাকে তাঁর মৃত্যু বিষয়ে না জানিয়ে অপরাধ করছে। তাঁর কোন ইচ্ছা যদি মরণের আগে করার জন্য মনে মনে স্বপ্ন থাকে।তাই ছয়মাস হওয়ার ঠিক একমাস আগে বাদশা মিয়া আমেনাকে তাঁর ক্যান্সার বিষয়ে জানাল।আমেনা শুনে যেন আশ্চর্য হলো না সে মনে মনে জানতো তাঁর সময় আর বেশী নেই।

বাদশা মিয়া তাঁর পাশে কাদঁতে লাগল।আমেনা তখন তাকে বলে

আহা এতো কান্নাকাটির কি আছে। ভালাইতো হইলো।আইজকে না কাইলকে বেগের মৃত্যু হইবো। আমারটা না হয় কখন হইবো ঐটাই নিশ্চত হইয়া গেলাম।এতো দুঃখ লইও না।আচ্ছা একখান কথা জিগায়?

একখান কেন হাজারখানা করো।

আমার মরার পর তুমি কি কইরবা?

বাদশা মিয়া তার কোন উত্তর খুঁজে পেল না।নিশ্চুপ বসে রইল।
আরেকডা বিয়া করবা নি?
আমেনা এইগুলা কোন কথা হইলো।
বাদশা মিয়ার চোখে পানি এসে জমে গেল।
এইগুলাইতো কইবার সময় এহন। বিয়া একখান কইরতে পারো।দুলালরে কে দেখবু বলো। বয়সতো তাঁর খুবই অল্প যারে আইনবে তারে মা ডাইকবো।কিন্তু শর্ত একটাই দুলালরে ভালা আদর কইরতে অইবো।

বাদশা মিয়া দু’ফোঁটা চোখের জল ফেললো।

আরেকখান কথা কই হাচা করি কইবা?

হ কও দেহি।

মইরবার পর কি আমারে মনে রাইখবে নাকি ভুইললা যাইবা।চুপ কইরা থাইকলে হইবো না।

তোমারে কেমনে ভুলমু আমি তুমিই কও দেহি। বাদশা মিয়া চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলল।

আপনের নামতো বাদশা একখান বাদশার মতো কাম কইরবেন?

কি কাম?

আমি মইরবার পর আমার জইন্যে শাহাজাহান বাদশার মতোন কইরা একখান তাজমহল বানাইবেন।জীবনে তাজমহল দেইখবার বড়ই শখ ছিলো।মমতাজের স্মরণে বানাইয়া ছিলো বাদশা শাহাজাহান। আপনি আমার জইন্যে একখান বানাইবেন। কি বানাইবেন না?
বাদশা মিয়া কোন জবাবই দিতে পারলো না। তাঁর এতো টাকাতো নেই যে একটা সুন্দর ঘর বানাবে তাজমহল সেতো বহুদুরের কথা।

আচ্ছা শুনেন মহলটার নাম কি দিবেন জানেন আমেনা মহল। জানি খাপছাড়া লাইগতাছে কিন্তু তাজমহল দিবার কি কোন মানে আছে নাকি।

আমেনা ভালো করেই জানে তাঁর আবদারটা বেশ ছেলেমানুষি আবদার। তারপরও বলতেতো আর ক্ষতি নেই।
ঘোর বর্ষার এক রাত্রে আমেনা তাঁর গরিবের রাজপ্রসাদ ছেড়ে অন্য দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তন করলো।
অনেকদিন পার হয়েছে মাঝে।অনেককিছুই বদলেছে জীবনের।কিন্তু বাদশা মিয়া এখনও আমেনা মহল নিয়ে ব্যস্ত।ইট,বালি,সিমেন্টের বদলে সে গাছের গুঁড়ি নিয়ে এসেছে। ভোর হওয়ার সাথেসাথে পেরেক ঠোকে ঠোকে এক একটা কাঠ জোড়া লাগিয়ে বানাতে থাকে আমেনা মহল।আমেনার স্মরণে আমেনা মহল।দুলাল দরজায় দাঁড়িয়ে মনে মনে বলে,
বাপজানের মাথা বোধহয় খারাপ হইয়া গেছে।
দুলাল সবসময় বলে,
বাপজান বাইক্কা কাম ছাইড়া দেন।

বাদশা মিয়া কোন কথা কানে তুলে না।একমনে দিনরাত বানাতে থাকে আমেনা মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়

তোমাকেই খুঁজি

বড় বড় ঢেউ গুনছো তুমি লঞ্চের ছাঁদে বসে, অর্ধ চাঁদের জোছনায় তুমি ভাবনায় যাচ্ছো ডুবে। ঝড়ো হাওয়ায় উড়ছে দেখো, তোমার কালো চুল। কল্পনাতে ভাবছি নাকি ভুল? একি! তোমার হাতে পদ্ম ফুল, পেলে...

নিস্তব্ধতার গন্ডিজাল

ঝড়ের চঞ্চল হাওয়া বয়ে যায় আমার নীড়ের পাশে, দুটি চোখ মেলে তাকিয়ে থাকি ওই নীল আকাশে। মনটা হয়ে যায় তখন, আনমনা আর উদাসিন। কালো মেঘেরা বলে তাদের গল্প কথা, নীড়হীন...

হয়তো

হয়তো... কখনো সকালের রোদ্দুর হয়ে তোমার ঘুম ভাঙ্গাবো... তোমার চায়ের কাপে ছোট্ট একটা পিপড়ে হয়ে ভেসে থাকবো... কখনো লাল মেহেদী হয়ে তোমার হাতে আকা থাকবো... কিংবা কখনো চশমার...

স্বপ্ন

স্বপ্ন যে এতোটা বাস্তবিক আর স্পর্শকাতর অনুভুতি দিতে পারে সেই ব্যাপারটা কিছুদিন আগেও আমার অজানা ছিলো... জ্ঞান হবার পর থেকে আজ অব্দি ভালো-খারাপ অনেক...