16.8 C
New York
Wednesday, November 11, 2020

ধরার বুকে মানব জাতি প্রেরণের উদ্দেশ্য

মহান রব্বুল আ’লামীন তাঁর পবিত্র কালামে ইরশাদ করেন:-

ربنا ما خلقت هذا باطلا
আমার প্রতিপালক কোন কিছু অনর্থক সৃষ্টি করেননি ।

পৃথিবীতে মানব জাতি প্রেরণের অনেক পূর্বেই মহান আল্লাহ্ তা’আলা জ্বীন জাতিকে প্রেরন করেছেন , অতঃপর তাদের নাফরমানি ও সীমালঙ্ঘনের কারনে ইবলিশ ব্যতিত সকলকে ধ্বংস করা হয় ।

অতঃপর মানব সৃষ্টি ও তাদের কে প্রাথমিক অবস্থায় জান্নাতে অবস্থান ও শয়তানের কুমন্ত্রনার জালে আবদ্ধ হয়ে মানব জাতিকে দুনিয়ায় প্রেরণের সূচনা।

এ প্রসঙ্গে মহান রব্বুল আ’লামীন কুরআনের সুরা বাকারার শুরুতে ইরশাদ করেন:-

“(হে নবী আপনি স্বরন করুন)  যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের কে বলল,, আমি দুনিয়ার একজন প্রতিনিধি প্রেরন করব।”

মানব জাতি কে সৃষ্টি করা ও দুনিয়ার প্রেরন করার উদ্দেশ্যের বিষয়টি আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র কুরআনের সুরা আয-যারিয়াতের মধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

আয়াতটি নিম্নরুপ :-

وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون.
অর্থাৎ, আর আমি মানুষ ও জ্বীন কে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্য।

উক্ত আয়াতের মাধ্যমে এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মানুষের জন্য সর্বদা আল্লাহর ইবাদত করা আবশ্যক।

বলা বাহুল্য, একজন মানুষের উপর ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ইত্যাদি কাজ থাকে।  সে ইচ্ছা করলেও সর্বদা ইবাদতে মশগুল হতে পারেনা।

তবে কি সে আল্লাহর এই আদেশের এই আদেশ অমান্য করবে? অবশ্যই না !

একটি আমলের মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ তা’আলার এই আদেশ পালন করা সম্ভব ।

যিনি আশরাফুল আম্বিয়া, মানবকুলের সর্দার, সর্বশেষ নবী ও সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করা কাম্য।

যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:-

كل امر ذي بال لم يبدأ فيه ببسم الله فهو اقطع

অর্থাৎ,  প্রত্যেক ঐ কাজ যা বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয়না তা লেজকাটা তথা বরকতশূন্য।

সুতরাং, যে কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা হয় সে সম্পূর্ণ  কাজ ইবাদতের মধ্যে গন্য হবে।

বিসমিল্লাহ এর বরকত ও ফজিলত অপরিসীম। যা সংক্ষেপে বর্ননা করা সম্ভব নয়।

বান্দাকে আল্লাহ্ তা’আলা তার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। বান্দা যদি কোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠ করে চাই তা ব্যক্তিগত হোক, পারিবারিক হোক অথবা সামাজিক বিসমিল্লাহ পাঠের দরুন তা ইবাদতের মধ্যে গন্য হবে।  সুবহানাল্লাহ !

শুধুমাত্র এই একটি আমলের মাধ্যমে বান্দা সর্বদাই ইবাদতের মধ্যে মশগুল থাকতে পারে।

শুধু তাই নয় বিসমিল্লাহ এর মধ্যে হরফের সংখ্যা উনিশটি যদি কেউ তা বেশী বেশী পাঠ করে তবে সে জাহান্নামের উনিশ জন ফেরেশতাদের আজাব হতে রক্ষা পাবে।

আল্লাহ্ তা’আলা যেন আমাদের সকল কে উক্ত আমল করার তাওফীক দান করেন।  আমীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়

তোমাকেই খুঁজি

বড় বড় ঢেউ গুনছো তুমি লঞ্চের ছাঁদে বসে, অর্ধ চাঁদের জোছনায় তুমি ভাবনায় যাচ্ছো ডুবে। ঝড়ো হাওয়ায় উড়ছে দেখো, তোমার কালো চুল। কল্পনাতে ভাবছি নাকি ভুল? একি! তোমার হাতে পদ্ম ফুল, পেলে...

নিস্তব্ধতার গন্ডিজাল

ঝড়ের চঞ্চল হাওয়া বয়ে যায় আমার নীড়ের পাশে, দুটি চোখ মেলে তাকিয়ে থাকি ওই নীল আকাশে। মনটা হয়ে যায় তখন, আনমনা আর উদাসিন। কালো মেঘেরা বলে তাদের গল্প কথা, নীড়হীন...

হয়তো

হয়তো... কখনো সকালের রোদ্দুর হয়ে তোমার ঘুম ভাঙ্গাবো... তোমার চায়ের কাপে ছোট্ট একটা পিপড়ে হয়ে ভেসে থাকবো... কখনো লাল মেহেদী হয়ে তোমার হাতে আকা থাকবো... কিংবা কখনো চশমার...

স্বপ্ন

স্বপ্ন যে এতোটা বাস্তবিক আর স্পর্শকাতর অনুভুতি দিতে পারে সেই ব্যাপারটা কিছুদিন আগেও আমার অজানা ছিলো... জ্ঞান হবার পর থেকে আজ অব্দি ভালো-খারাপ অনেক...